Ongoing Project

স্বাবলম্বী কর্মসূচি চলমান উদ্যোগ

স্বাবলম্বী কর্মসূচি

NRDA Foundation-এর স্বাবলম্বীকরণ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো সমাজের পিছিয়ে পড়া, আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও অসহায় নারী-পুরুষকে প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং উপযুক্ত সুযোগ প্রদানের মাধ্যমে দারিদ্র্য থেকে উত্তরণে সহায়তা করা এবং তাদের স্থায়ীভাবে আত্মনির্ভরশীল করে তোলা।

আমরা শুধু আর্থিক সহায়তা প্রদানের মধ্যে আমাদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না। বরং সততা, যোগ্যতা, দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসের ভিত্তিতে সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে যোগ্য ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে তাদের পরিবার ও সমাজের উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করতে চাই।

স্বাবলম্বীকরণ ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা

১. প্রয়োজন মূল্যায়ন ও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

সমাজের অসহায় ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল নারী-পুরুষের প্রকৃত চাহিদা, সমস্যা, সক্ষমতা এবং সম্ভাবনা চিহ্নিত করা হবে। এজন্য নির্দিষ্ট এলাকায় জরিপ ও প্রয়োজন মূল্যায়নের মাধ্যমে তাদের আর্থিক অবস্থা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, বিদ্যমান দক্ষতা, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং কোন ধরনের প্রশিক্ষণ বা সহযোগিতা তাদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর হবে তা নির্ধারণ করা হবে।

এই তথ্যের ভিত্তিতে ব্যক্তি ও পরিবারের জন্য উপযুক্ত স্বাবলম্বীকরণ পরিকল্পনা তৈরি করা হবে।

২. দক্ষতা ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ

চাহিদা ও সক্ষমতার ভিত্তিতে নারী-পুরুষদের বিভিন্ন বৃত্তিমূলক ও কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ প্রদান করা হবে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং আয়মূলক কাজে যুক্ত হওয়ার সক্ষমতা তৈরি করা হবে।

৩. কর্মসংস্থান ও আয়মূলক কার্যক্রম

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং আয়মূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে সহযোগিতা করা হবে। যোগ্যতা ও দক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চাকরি, ক্ষুদ্র ব্যবসা, উদ্যোক্তা কার্যক্রম বা অন্যান্য বৈধ আয়ের উৎস তৈরিতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হবে।

৪. প্রয়োজনভিত্তিক আর্থিক ও উপকরণ সহায়তা

স্বাবলম্বী হওয়ার পথে যাদের প্রাথমিক সহায়তা প্রয়োজন, তাদের প্রয়োজন ও সক্ষমতা বিবেচনা করে উপযুক্ত আর্থিক সহযোগিতা বা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও উপকরণ প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর উদ্দেশ্য হবে সহায়তাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে দীর্ঘমেয়াদে নিজের আয়ের উৎস তৈরি করতে সক্ষম করা।

৫. নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন

সুবিধাবঞ্চিত ও অসচ্ছল নারীদের স্বাবলম্বী করার জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কার্যক্রম এবং আয়মূলক কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে, যাতে তারা পরিবার ও সমাজে অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে পারেন।

৬. উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও পরামর্শ

যারা নিজস্ব উদ্যোগ বা ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করতে আগ্রহী, তাদের ব্যবসায়িক ধারণা তৈরি, পরিকল্পনা, প্রাথমিক ব্যবস্থাপনা, বাজার সম্পর্কে ধারণা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা হবে।

৭. সচেতনতা, সততা ও নাগরিক মূল্যবোধ

স্বাবলম্বীকরণের পাশাপাশি উপকারভোগীদের মধ্যে সততা, দায়িত্ববোধ, মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক সচেতনতা এবং নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা হবে। আমরা চাই তারা শুধু অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী নয়, বরং একজন যোগ্য, সৎ, দক্ষ ও সমাজসচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠুক।

৮. দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ ও সহযোগিতা

কর্মসূচির মাধ্যমে উপকৃত ব্যক্তিদের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। তাদের কর্মসংস্থান, আয়, ব্যবসা বা স্বাবলম্বীকরণের অগ্রগতি মূল্যায়ন করে প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

আমাদের প্রত্যাশা

NRDA Foundation বিশ্বাস করে, সঠিক প্রশিক্ষণ, সুযোগ, দিকনির্দেশনা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে একজন অসহায় মানুষও নিজের ও পরিবারের ভবিষ্যৎ পরিবর্তন করতে পারেন। তাই আমাদের স্বাবলম্বীকরণ কর্মসূচির মাধ্যমে এমন একটি সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে, যেখানে মানুষ কেবল সহায়তার ওপর নির্ভরশীল না থেকে নিজের দক্ষতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠবে।

একজন মানুষকে শুধু সহায়তা করা নয়—তাকে এমনভাবে সক্ষম করে তোলা, যাতে সে ভবিষ্যতে নিজেই নিজের এবং অন্যের পাশে দাঁড়াতে পারে—এটাই NRDA Foundation-এর স্বাবলম্বীকরণ কর্মসূচির মূল দর্শন।

সব প্রজেক্টে ফিরে যান